ভয়ের কারাগারে বন্দি
আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগের একদিন আমি এই লেখাটা লিখেছিলাম—
কোন কোন দিন মনে হয় আমি যেন বন্দি। আজ ছিল সেরকমই একটা দিন। আমার মনের কোণের সেই কণ্ঠস্বরটাই এবার আপনাদের উদ্দেশ্যে বিস্তারিত বলবে।
হ্যালো, আমি সেই গোপন কণ্ঠ, যে বলে— রাতে যখন তুমি ঘুমাও, কেউ তোমাকে দেখছে।
তুমি যখন ছোট ছিলে, আমি বলতাম তোমার খাটের নিচে বা আলমারির ভেতরে কোনো বিশাল ভয়ংকর কিছু লুকিয়ে আছে।
হ্যাঁ, আমিই সেই একই আওয়াজ, যে বলে— মাঝরাতে আয়নায় তাকিও না, আর সময়মতো বাথরুমে যাও, না হলে সংক্রমণ হবে।
কখনো কখনো আমি তোমাকে সত্যি সত্যিই সাবধান করি…
যেমন ঝড়ের রাতে গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক হতে বলি। গভীর রাতে বাইরে গেলে চারপাশে নজর রাখতে বলি। বা অসুখ এড়ানোর জন্য ভালোভাবে হাত ধুতে বলি।
কিন্তু অনেক সময় আমি ব্যাপারগুলোকে বাড়িয়ে বলি। অতিরঞ্জিত করি।
যেমন আকাশে প্লেনের শব্দ শুনেই বলি— এখনই কোনো দুর্ঘটনা হতে যাচ্ছে।
বা মনে করিয়ে দিই, তোমার মেট্রো ট্রেনে নিশ্চয়ই বোমা রাখা হয়েছে, আর তোমার প্রিয়জনদের কাছে ভালোবাসার কথা বলা হয়ে ওঠেনি।
কখনো বলি, আজই সেই দিন— একজন মানসিক রোগী বন্দুক হাতে তোমার অফিসে ঢুকে পড়বে, তাই দেরি হওয়ার আগেই পালানোর জায়গা খুঁজে রাখো।
বাতাসটা খুবই জোরে বইছে— তুমি কি ঝড়ের জন্য প্রস্তুত?
আমি চাইলে ছোট ছোট ব্যাপারেও তোমাকে আতঙ্কে ভরিয়ে দিতে পারি।
এখন দেরি হয়ে গেছে— মুদি দোকানের সেই মহিলা কাশলেও মুখ ঢাকেনি, তোমার অসুখ নিশ্চিত।
আজ রাতেই— হ্যাঁ, আজই কেউ তোমার বাড়িতে ঢুকবে।
তুমি তাকে বলেছিলে বাসায় পৌঁছে একটা টেক্সট দিতে, এখনো কিছু শোনোনি— নিশ্চয়ই কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বাড়িটা অস্বাভাবিক শান্ত, অথচ তোমার মা তো এখনই ফেরার কথা ছিল— হয়তো কেউ তার গলা কেটে বাথরুমে ফেলে রেখে গেছে।
হ্যাঁ, মৃত্যু নিয়েই আমি সবচেয়ে বেশি কথা বলি।
আশ্চর্য হলেও সত্যি, এমনকি তুচ্ছ ছোট ছোট বিষয়ও তোমার মনে দাগ কাটে।
তুমি যথেষ্ট সময় কাজ করো না— সবাই ভাবে তুমি অলস।
তুমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ো, কিন্তু রেজাল্টে তার ছাপ নেই— হয়তো পাশই করতে পারবে না।
তারা তোমাকে পছন্দ করে না, কারণ তুমি যথেষ্ট “কুল” নও। তারা তোমার পেছনে নানান কথা বলে।
তারা হয়তো তোমাকে ততটা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভাবে না, যতটা তুমি তাদের ভাবো।
তুমি কি এই মাসের বিল মেটাতে পারবে?
দেখলে? কত তুচ্ছ চিন্তা!
তবুও আমি তোমার মন ভরে ফেলি বিশাল থেকে ছোট সব দুশ্চিন্তায়— আর সেগুলো মিলে চমৎকারভাবে তোমাকে পঙ্গু করে ফেলে।
তোমার হৃদস্পন্দন বাড়ে, তুমি অস্থির হয়ে পড়ো, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়— অবশেষে অবশ হয়ে পড়ো।
তুমি তোমার কল্পনারই ভয়ে আটকে পড়ো।
তুমি কীভাবে নিজেকে বিশ্বাস করবে?
তুমি কীভাবে তোমার মাথার এই আওয়াজগুলোকে বিশ্বাস করবে? সত্যি বলো, তুমি কি মনে করো আমি বিশ্বাসযোগ্য?
আমি তোমাকে কী বলি তা তুমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারো না। আর আমাকে থামানোও তোমার পক্ষে সম্ভব নয়।
তাহলে তোমার মুক্তি কোথায়?
আমি তোমাকে বন্দি করে রেখেছি। কারণ আমিই তো তুমি।
সম্ভবত আমি এটা কোনো লাঞ্চ ব্রেকে, কিংবা স্কুলে যাওয়ার পথে ট্রেনে বসে লিখেছিলাম। অথবা অন্য কোনো ফাঁকে। যাই হোক, বেশ খানিকটা সময় আমি এভাবেই দমবন্ধ করা অনুভূতির মধ্যে ডুবে ছিলাম।
বিচিত্র ব্যাপার হলো, আমি এই লেখার মুহূর্তটা স্মরণ করতে পারি না, তবুও এই আবেগ আর অবশতার যন্ত্রণাটা আমার ভীষণ পরিচিত।
আপনি কি কখনো এমন দুঃস্বপ্নের মতো চিন্তার সঙ্গে লড়াই করেছেন, কখনো কি মনে হয় যে আপনার মস্তিষ্ক উপচে পড়ছে ভয়ে?
কারও সঙ্গে এসব খোলাখুলি কথা বললে আমার মনে ভার কিছুটা কমে যায়— আপনারও কমতে পারে, চেষ্টা করে দেখুন।
আপনার একা লড়াই করার প্রয়োজন নেই। একজন নির্দেশকের সাথে কথা বলুন, এটি গোপন থাকবে।
এই সংগ্রামের সাথে লড়াই করা কঠিন। আপনি যদি নিজের বা অন্যকে ক্ষতি করার কথা ভেবে থাকেন তাহলে, এটি পড়ুন!
দয়া করে নীচের ফর্মটি পূরণ করুন যাতে আমরা আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারি। উল্লেখিত ফিল্ট ছাড়া বাকি সব ফিল্ডগুলি আবশ্যক।