অতিরিক্ত বোঝা
বিবাহবিচ্ছেদ আমাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে, আর আমি এখনো সেই বোঝার কিছু অংশ বহন করছি। তবুও আমি তাদেরই একজন, যারা আশায় বুক বেঁধে আবারও বিবাহে বিশ্বাস রাখতে চেয়েছিল।
সর্বোত্তম আশায় পাঁচ বছর আগে আমি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুকে বিয়ে করলাম। ঘর ভরে গিয়েছিল বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের হাসিতে, আর আমাদের হৃদয় ছিল আনন্দে পরিপূর্ণ— আমরা একসাথে সারাজীবন কাটাবো। আমাদের হানিমুনের সময়টা ছিল সত্যিই দারুণ! কিন্তু সেই মধুচন্দ্রিমা শেষ হলো বিয়ের আট দিন পর, মেক্সিকো থেকে ফিরে আসার পরই। এরপর শুরু হলো ঘূর্ণিঝড়ের মতো এক জীবন।
এটা ছিল আমার দ্বিতীয় বিয়ে, কিন্তু ওর প্রথম। আমার আগের সংসারের দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আমি বিয়েটা করি, আর পাঁচ বছরের মধ্যেই আমাদের পরিবারে আরও দুই ছেলে যোগ হলো। একজন একলা বাবা হিসেবে জীবন আগেও কঠিন ছিল, কিন্তু এখন মনে হলো পাগল করা জটিল— আরও অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, আরও অনেক মতবিরোধ, আরও ব্যস্ত সময়সূচি, আমার স্ত্রী সৎমায়ের ভূমিকা বুঝে ওঠার জন্য লড়ছে, আর পুরনো ক্ষতগুলো আবারও সম্পর্কটাকে নাড়া দিচ্ছে। আমাদের বিবাহ যেন টানটান হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছিল। আমাদের কাছ থেকে এমন অনেক কিছুই প্রত্যাশা করা হচ্ছিল, যা সামলানোর উপায় আমরা জানতাম না।
আমাদের কেউই ভাবিনি দুটি পরিবার মেলানো সহজ হবে, কিন্তু কতটা কঠিন হতে পারে, তা বুঝলাম তখনই, যখন আমাদের ভেতরে কিছু একটা নিঃশেষ হতে শুরু করল। এটা ছিল ধীরে ধীরে পচে যাওয়া এক প্রক্রিয়া— শুরুতে খুব সূক্ষ্ম, যা ও আমার চেয়ে বেশি অনুভব করছিল। আমাদের নবদম্পতির আনন্দ ধীরে ধীরে ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল, যতক্ষণ না আমরা একসাথে বাঁচার পরিবর্তে শুধু টিকে থাকার চেষ্টা করছিলাম— একে অপরের প্রতি হতাশা ঝেড়ে না ফেলেই।
যখন আমার স্ত্রী কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে তার মনের কথা বলত, তখন ওর প্রয়োজন ছিল আমি যেন কেবল শুনি। কিন্তু আমি অপমানিত বোধ করে রেগে যেতাম— “তুমি এত নেতিবাচক কেন? একটু ইতিবাচকভাবে ভাবতে পারো না?” আমি তার অসন্তোষকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছিলাম, কারণ সেটা আমার কাছে মানে ছিল— আমি আবারও এক স্ত্রীকে হতাশ করছি। আমি ওকে সেই জীবন দিতে পারিনি, যা সে চেয়েছিল। হয়তো আমি ওর জন্য সত্যিই ভালো কোনো পছন্দ ছিলাম না; আমার ভাঙা অতীত আর বিশৃঙ্খল জীবন ওকে শ্বাসরুদ্ধ করছিল।
আমি কখনো মুখে “বিবাহবিচ্ছেদ” শব্দটা উচ্চারণ করিনি, কিন্তু মনের ভেতরে সেই চিন্তা উঁকি দিচ্ছিল— “আমি কি আবারও তালাকপ্রাপ্ত হতে যাচ্ছি? আমি কি দ্বিতীয় সুযোগটাও নষ্ট করে ফেলছি?”
আমরা শুরুতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলাম, এই বিয়েটা সফল করব এবং সব বাধা জয় করব। কিন্তু চার বছর পর এসে সেই আশাবাদী মনোভাব মরে গেল, আর আমরা বুঝতে পারলাম না কিভাবে নিজেদের ঠিক করব। না বলা কথাগুলো আমাদের মধ্যে যন্ত্রণার এক দেয়াল তুলে দিল।
যতই আমি চেষ্টা করেছি দ্বিতীয়বার সব ঠিকভাবে করতে, মনে হয়েছে পুরনো ক্ষত আর একত্র পরিবারের চাপই জিতবে। আমি আবারও বিবাহে ব্যর্থ হতে চলেছি। তাই আমি অহংকার গিলে নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে কাউন্সেলিংয়ে যাওয়া ঠিক করলাম। কয়েকটি গভীরভাবে বেদনাদায়ক সেশনের মধ্য দিয়ে আমরা ধীরে ধীরে বিভ্রান্তি আর দোষারোপের দেয়াল ভাঙতে শুরু করলাম, যাতে আমরা খোলাখুলিভাবে সেই কষ্টের মুখোমুখি হতে পারি, তা উচ্চারণ করতে পারি, আর আবারও একই দলে ফিরে আসতে পারি।
জীবন সহজ হয়ে যায়নি, আর আমি আশা করি না যে তা হবে। কিন্তু আমরা এখন একে অপরের পাশে থাকার শিক্ষা নিচ্ছি। আমরা এখন একসাথে মুখোমুখি হই, একসাথে পথ চলি। আমাদের একটাই মিশন— এই একত্রিত পরিবার যেভাবেই হোক একসাথে থাকবে।
পুনর্বিবাহ এবং একত্রিত পরিবার গড়া সত্যিই কঠিন এক যাত্রা। তাই পাশে কাউকে পাওয়া খুব জরুরি, যে আপনার সঙ্গে হাঁটবে। যদি আমার গল্প আপনার সঙ্গে মিলে যায়, আমি আপনাকে অনুরোধ করি যোগাযোগ করতে। আপনার যোগাযোগের তথ্য দিন— আমাদের দলের কেউ আপনার সঙ্গে যুক্ত হবেন, আপনার কথা শুনবেন এবং সাহস যোগাবেন।
আপনার একা লড়াই করার প্রয়োজন নেই। একজন নির্দেশকের সাথে কথা বলুন, এটি গোপন থাকবে।
এই সংগ্রামের সাথে লড়াই করা কঠিন। আপনি যদি নিজের বা অন্যকে ক্ষতি করার কথা ভেবে থাকেন তাহলে, এটি পড়ুন!
দয়া করে নীচের ফর্মটি পূরণ করুন যাতে আমরা আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারি। উল্লেখিত ফিল্ট ছাড়া বাকি সব ফিল্ডগুলি আবশ্যক।