আমি আমার স্বপ্ন থেকে বাদ পড়েছিলাম
তুমি পিয়ানো মেজর হিসেবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে না। গ্র্যাজুয়েট স্কুলের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শেষে আমার “জুরি”র পর পিয়ানো এবং অর্গানের শিক্ষকরা আমাকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেন।
এই কথাগুলো আমি আগে কখনো শুনিনি। স্কুলে শুনি নি কারণ স্কুলই ছিল আমার অতিরিক্ত সাফল্যের আশ্রয়স্থল। সঙ্গীতে তো শুনিই নি কারণ জীবনের আঘাত থেকে সেরে ওঠার জন্য আমার আত্মা ওখানেই আশ্রয় নিত।
অসম্ভব। অবিশ্বাস্য। কল্পনাতীত। আমি পিয়ানো বাজিয়েছি ১৫ বছর ধরে। সঙ্গীতের প্রতি আমার গভীর টান ছিল, বিশেষ করে পিয়ানোতে। তারা কি বুঝতে পারেনি সেই সেমিস্টারের শুরুতে আমি কতটা অসুস্থ ছিলাম, এবং আমার পক্ষে কীভাবে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার পর সামনে এগোনো কীভাবে অসম্ভব হয়ে উঠেছিল?
এটা হতে পারে না।
কিন্তু হয়েছিল। আমি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম আজীবনের এক স্বপ্ন থেকে, যা দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে আমার দৃঢ় ভিত্তি ছিল। আমি রাগান্বিত ছিলাম আমার বর্তমান শিক্ষকদের উপর, যারা আমাকে “না” বলেছিল। আমার অতীত শিক্ষকদের উপরও, যারা আমাকে ভুল স্বপ্নে ভরসা দিয়েছিল। আর নিজের উপরও, ব্যর্থতার জন্য।
এটা স্বপ্নের মতো করে শুরু হয়েছিল। মাত্র সাত বছর বয়সে, আমি পিয়ানো শেখার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু আরও দুই বছর পিয়ানো শেখা শুরু করতে পারিনি, কারণ পিয়ানো কেনা আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে ছিল না।
অধিকাংশ শিশুই নিয়মিত চকর্চা করে না কিন্তু আমি নিয়মিতভাবে পিয়ানো চর্চা করতাম। আমার ৬৯ বছর বয়সী দাদি আমার পাশে বসে শিখতেন। আমি আগ্রহ নিয়ে চর্চা করতাম এবং দ্রুত উন্নতি করেছিলাম। আমাকে দেখে সবাই ভাবত, এ এক ছোটখাটো বিস্ময়-শিশু। বাখ এবং ডেবুসি ছিল আমার প্রিয় সুরকার, তবে আমি সবাইকেই ভালোবাসতাম।
অষ্টম শ্রেণিতে পৌঁছানোর আগেই আমি কয়েক বছর ধরে চার্চে পিয়ানো বাজাচ্ছিলাম, এবং স্কুলের মিউজিক প্রোগ্রামগুলোতেও সঙ্গত করতে যথেষ্ট ভালোভাবে বাজাতে পারতাম।
হাই স্কুলে, আমি নিয়মিতভাবে স্কুলের কোরাল গ্রুপের সাথে ট্যুরে এবং প্রতিযোগিতায় সঙ্গত করতাম, এবং এমনকি জুনিয়র হাই-এর একটি প্রোগ্রামের জন্য আমাকে পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়েছিল।
আমি আমার ভবিষ্যতের উপর কোনো নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছিলাম।
আমি কলেজে পিয়ানো মেজর ছিলাম — যেখানে আমি কোরাল গ্রুপের জন্য বাজানো চালিয়ে গিয়েছিলাম — এবং শীর্ষ ফলাফলের সাথে গ্র্যাজুয়েশন করার পর আমি গ্র্যাজুয়েট স্কুলেও সেই একই স্তরে এগিয়ে যাওয়ার আশা করেছিলাম।
বিশেষ করে কারণ, তারা যত পরীক্ষা আমাকে দিয়েছিল — নোটের মধ্যে পার্থক্য চিনতে পারা থেকে শুরু করে সাইট রিডিং, বা অতিরিক্ত ভোকাল লেসনের প্রয়োজনীয়তা ছাড়িয়ে যাওয়া পর্যন্ত — সব আমি দুর্দান্তভাবে পাশ করেছিলাম।
সঙ্গীতই আমাকে সংজ্ঞায়িত করত। যখন শিক্ষকরা সেটা আমার কাছ থেকে কেড়ে নিলেন, তারা আমার আত্মপরিচয়ও কেড়ে নিলেন।
আমি ভবিষ্যতের উপর আমার যেকোনো নিয়ন্ত্রণের অনুভূতিও হারিয়ে ফেলেছিলাম।
এটাই প্রথমবার ছিল যখন আমার সেরা প্রচেষ্টা যথেষ্ট ছিল না। সঙ্গীতে আগে কেউ আমাকে “না” বলেনি। আমি কখনো সেই ভয়ানক সত্যটি জানতে পারিনি যে, কিছু বিষয় আছে যা আমি চেষ্টার পরও অর্জন করতে পারব না।
পারফেকশনিজম ছেড়ে আসা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ছিল, কিন্তু আমি এমন কিছু বিষয়ের সাথে মানিয়ে নিয়েছিলাম যা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, যেমন নির্যাতন, এবং মনোযোগ দিয়েছিলাম এমন ক্ষেত্রগুলোর দিকে যা আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং যেখানে আমি উৎকর্ষ অর্জন করতে পারতাম।
সেই সময়ে, আমাকে আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁচার উপায় ছেড়ে দিতে হয়েছিল, কিন্তু তার পরিবর্তে কিছুই ছিল না।
শেষমেষ, আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলাম — প্রাথমিক শিশু শিক্ষা।
আমি পরের বছরও মিউজিক স্কুলের ট্যুর গ্রুপের সাথে যুক্ত ছিলাম, কিন্তু বিয়ের পর এটাও শেষ হয়ে গেল।
এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ আমি কিছু বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কিন্তু বছর যেতে যেতে বুঝতে পারলাম, সেই শিক্ষকরা চায়নি বা আশা করেনি যে আমি মিউজিক স্কুল ছেড়ে যাব।
তারা আমাকে মিউজিক থিওরিতে পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়েছিল, আর মাঝে মাঝে ভাবি, যদি আমি সেই পথ বেছে নিতাম, তাহলে আমার জীবন কোন দিকে যেত।
সত্য হলো, আমি সঙ্গীতে অত্যন্ত দক্ষ ছিলাম, এবং আমি যতটা ভাবতাম, তার চেয়েও ভালো গায়ক ছিলাম। তারা এমন গুণ দেখেছিল যা আমি নিজের মধ্যে চিনতে পারিনি। কিন্তু আমি শুধু দেখতে পাচ্ছিলাম, একজন পিয়ানিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার আমার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
আরও কঠিন সত্য ছিল যে, তাদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। এক সময় আমি পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণে, জীবনের সেই পর্যায়ে আমি আমার আবেগের সাথে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম।
আমি একটি সঙ্গীতের আবেগ চিনতে পারতাম না, যখন নিজের হৃদয়ের অনুভূতিই জানতাম না। শেষমেষ আমি সেই অংশটি ফিরে পেয়েছিলাম, কিন্তু তখন পিয়ানোতে উৎকর্ষ অর্জনের জন্য অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।
ভালো দিক হলো, শিক্ষক হিসেবে নিজের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন একটি দিক আবিষ্কার করেছিলাম। প্রাকৃতিক আগ্রহের সাথে যুক্ত করেছিলাম বোঝাপড়া আর পদ্ধতি, এবং দেখেছি, কোনো শিশুর সাথেই আমি সম্পর্ক স্থাপন করতে ব্যর্থ হইনি।
পড়তে, বিশ্লেষণ করতে এবং শেখাতে পারার ক্ষমতা আমার লেখক হিসেবে কাজেও প্রভাব ফেলেছে।
আর সঙ্গীত আমার থেকে দূরে থাকতে রাজি ছিল না। বহু বছর প্রায় অনুশীলন না করার কারণে আমার দক্ষতা হাস্যকর পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু শেষমেষ আমি নিজেকে একটি ছোট গ্রামীণ চার্চের পিয়ানোবাদক হিসেবে খুঁজে পেলাম।
আমি এখনো সেই একই নার্সিং হোমে বাজাই, যেখানে ১১ বছর বয়সে বাজাতাম। যদিও এখন অনেক ভুল নোট বাজাই, তবুও আমি আবেগ এবং প্রাণশক্তি দিয়ে বাজাই, যা প্রায়ই দর্শককে আকৃষ্ট করে।
আমি ঠিকই বলেছিলাম — আমি পিয়ানিস্ট হওয়ার জন্যই জন্মেছি। শুধু সেইভাবে নয়, যেভাবে আমি তা করার চেষ্টা করছিলাম। এখন আমি আনন্দের জন্য বাজাই।
যদিও সেই সময় এটি ভয়ানক ধ্বংসাত্মক ছিল, তবুও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে পিয়ানো মেজর থেকে বাদ পড়া আমার জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি শিখেছি, আমি জীবনে ব্যর্থ হইনি, যেমনটা প্রথমে মনে করেছিলাম। শুধু জীবনের পথ পরিবর্তন হয়েছিল, এবং সেটিই সেরা ফল বয়ে এনেছিল। কে ভাবতে পেরেছিল যে জীবন এভাবে মোড় নেবে?
যদি আপনি স্কুলে অথবা জীবনের অন্য কোনো ক্ষেত্রে নিজেকে ব্যর্থ মনে করেন এবং কারো সাথে কথা বলতে চান, নিচে আপনার তথ্য রেখে যান। আমাদের কোনো এক বিনামূল্যের এবং গোপনীয় পরামর্শদাতা আন্তরিকভাবে আপনার কথা শুনবে। কারণ আপনি একা নন এই লড়াইয়ে।
আপনার একা লড়াই করার প্রয়োজন নেই। একজন নির্দেশকের সাথে কথা বলুন, এটি গোপন থাকবে।
এই সংগ্রামের সাথে লড়াই করা কঠিন। আপনি যদি নিজের বা অন্যকে ক্ষতি করার কথা ভেবে থাকেন তাহলে, এটি পড়ুন!
দয়া করে নীচের ফর্মটি পূরণ করুন যাতে আমরা আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারি। উল্লেখিত ফিল্ট ছাড়া বাকি সব ফিল্ডগুলি আবশ্যক।