অপহৃত শৈশব
আমি শৈশবে প্রথম যখন আমি নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছিলাম তখন আমার বয়স ঠিক কত ছিল তা আমার মনে নেই। তবে বয়স তখন খুবই কম ছিল, এটা নিশ্চিত। সম্ভবত প্রায় ৭ বা ৮।
আমার পরিবারের সদস্যের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন খুব দৃঢ় ছিল। বাড়ির পরিবেশও খুব নিরাপদ ছিল। আমাদের মধ্যবয়সী আয়া বছরের পর বছর ধরে পরিবারের সাথে ছিলেন। তাকে খুব যত্নশীল মনে হত এবং তাঁকে আমই আমার নিজের মায়ের মতোই ভাবতাম।
একদিন বিকেলে আমার বাবা-মা কাজে গিয়েছিলেন। বাড়িতে তখন কেউ ছিল না। সেই আয়া আমাকে তার সাথে একটি "গেম" খেলতে বলে। সে আমাকে দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করিয়েছিল। বিনিময়ে সে আমাকে ক্যান্ডি খেতে দিয়েছিল। তিনি এটিকে একটি "মজার খেলা" বলে জিনিসটাকে আমার কাছে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছিলেন। আমি খুব ছোট ছিলাম, তবু এটা আমার ভালো লাগে নি। আমি তাকে সেটা বলেওছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে বলেছিলেন যে এটা খারাপ কিছু নয়। এবং তাকে এভাবে ছুঁলে তার খুব ভালো লাগে। যেহেতু তাকে আমি খুব শ্রদ্ধা করতাম, তাই তাঁর কথা মেনে নিলাম।
সে আমাকে অনুপযুক্তভাবে তার স্পর্শ করতে বাধ্য করেছে। বিনিময়ে সে আমাকে মিছরি দিয়েছিল।
যখন আমি তাকে বললাম যে আমি এই গেমগুলি আর খেলতে চাই না, তখন তিনি আমাকে হুমকি দিলেন যে তিনি আমার ছোট ভাইয়ের সাথেও একই কাজ করবেন। এবং যদি তাতেও আমি না মানি , তাহলে তিনি আমার বাবা-মাকে বলে দেবেন যে আমি নিজেই তার সাথে এইসব কাজ করা শুরু করেছি। অনন্তকাল ধরে তাঁর কথা শুনে যাওয়া ছাড়া আমার কাছে তখন আর কোন উপায় ছিল না। মনে হচ্ছিল যেন আমি একটি ভয়ানক দুঃস্বপ্নের মধ্যে আটকা পড়েছি যেখানে আঁধার কেটে কোনদিন সকাল আসবে না।
এভাবে কতদিন চলেছিল তা আমার মনে নেই। কারণ জীবনের ঐ সময়টা একেবারে শূন্য মনে হয় আমার। আমার মনে আছে কয়েক বছর পরে ঐ আয়াটিই আমার মায়ের সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং আমি ঐ মুহূর্তে নিজের উপর সম্পূর্ণভাবে নিজের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। সে আমার সাথে যা করেছে সেগুলো আমার মনে গভীরে জমে ছিল। সে কারণে তাঁর এতটাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলাম যে এই আচরণটা আমার সাথে একবারেই যায় না। এবং এই প্রতিক্রিয়াটি আমার মাকে অবাক করে দিয়েছিল। কিন্তু এর পেছনে আসলে আমার মনে জমে থাকা সমস্ত ক্ষোভের প্রতিফলন ছিল।
অনেক বছর পর, ৩৬ বছর বয়সে, আমি আমার বাবা-মায়ের কাছে আসি এবং আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। তখনও বুঝিনি যে আমই নিপীড়নের স্বীকার হয়েছিলাম। তাদের মুখে অসহায়ত্ব, অপরাধবোধ এবং বিষণ্ণতা দেখে মনে হল যে তারা অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। মনে হয়েছিল যেন তারা ক্ষমা চাইতে জানে না। তাদের মনে হচ্ছিল যে তারা তাদের সন্তানকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা সেদিন ঘন্টার পর ঘন্টা একসাথে কেঁদেছিলাম। বছরের পর বছর জমে থাকা অপরাধবোধ, ক্রোধ এবং হতাশা সেদিন ঢেলে দিয়েছিলাম। সেদিন মনের কথা বলার পরে আমার নিজেকে অনেক হালকা লাগল। এর ফলে আমি তাদের অনেক কাছাকাছি আসতে পারলাম। আমি আরও বুঝতে পেরেছি যে যাই হোক না কেন, তারা এখনও আমাকে ভালবাসে এবং এই বিষয়টি অনেক মূল্যবান।
এখন একজন 45 বছর বয়সী মানুষ হিসাবে, কোথাও না কোথাও গভীরভাবে, আমি বিশ্বাস করি যে যৌন নির্যাতন এবং ট্রমা আমার মানসিকতায় গভীর দাগ ফেলেছে। এখন আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না। আমি একা থাকি এবং আমার পেশাগত জীবনে সফলতা মাঝারিমানের। কখনও প্রেমের সম্পর্কে না থাকায়, আমি একজন মনের মানুষ খুঁজছি। আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে ভবিষ্যৎ আমার জন্য কী কী ঠিক করে রেখেছে তা নিয়ে গভীরভাবে আশাবাদী।
পিছনে ফিরে তাকালে পরিবারের সাথে আমার জীবনের এই দিকটি শেয়ার করার কথা মনে পড়ে। তাদের কাছে আমি যে নিঃশর্ত ভালবাসা পেয়েছি তা আমাকে নিরাময় করতে সাহায্য করেছিল। আমি থেরাপির জন্য ঘণ্টার পর ঘন্টা কাটিয়েছি এবং এটি আমাকে জীবন উপভোগ করতে এবং অতীতের সাথে মোকাবিলা করতে সহায়তা করেছে। আমার একমাত্র আফসোস কেন আগেই শেয়ার করলাম না। লোকেরা আমাকে নিয়ে কী বলবে এবং ভাববে তা ভেবে ভেবে এত বছর হারিয়েছি।
আপনি কি শিশু হিসাবে নির্যাতিত হয়েছেন? এটি কি আপনার জীবনে একটি গভীর দাগ রেখে গেছে, এবং আপনি কারো সাথে এটি নিয়ে আলোচনা করার সাহস পাননি? আপনি হয়তো বছরের পর বছর ধরে অপরাধবোধ বা এমনকি লজ্জাও বহন করছেন। কারোর কাছে নিজের মনের কথা খুলে বললে মনের ভার অনেক কমে যায়। আপনি যদি আপনার যোগাযোগের তথ্য নীচে রেখে যান, কেউ আপনার গল্প শোনার জন্য এবং সাহায্য করার জন্য আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। কারণ আপনি মোটেও একা নন।
আপনার একা লড়াই করার প্রয়োজন নেই। একজন নির্দেশকের সাথে কথা বলুন, এটি গোপন থাকবে।
এই সংগ্রামের সাথে লড়াই করা কঠিন। আপনি যদি নিজের বা অন্যকে ক্ষতি করার কথা ভেবে থাকেন তাহলে, এটি পড়ুন!
দয়া করে নীচের ফর্মটি পূরণ করুন যাতে আমরা আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারি। উল্লেখিত ফিল্ট ছাড়া বাকি সব ফিল্ডগুলি আবশ্যক।